ইন্টারনেটে থেকে নিজেকে যেভাবে নিরাপদ রাখবেন

1
308

আমাদের পৃথিবীর মধ্যে মানব সৃষ্ট নতুন আরেকটি দুনিয়া আছে যেটাকে আমরা ইন্টারনেট দুনিয়া, অনলাইন দুনিয়া বা ভার্চুয়াল দুনিয়া যেটা খুশি সেটা বলতে পারি। এই দুনিয়ার মাধ্যমে আমরা অনেক কাজ অতি সহজেই এবং মুহূর্তের মধ্যে করে ফেলতে পারি। এসব কাজ করার পাশাপাশি ইন্টানেটের এই দুনিয়ায় আমাদের নিজেকেও নিরাপদ রাখতে হবে। ইন্টারনেটে নিজেকে নিরাপদ বা সুরক্ষিত না রাখলে আমরা আমদের এই সামাজিক দুনিয়ায় অনেক প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হব। এর পাশাপাশি আমাদের নিজেদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে।

সামাজিক এই দুনিয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট দুনিয়া কোন অংশেই কম নয়। অনলাইনে কেনাকাটা, খাবার অর্ডার, যোগাযোগ কত কী না করা সম্ভব। ইন্টারনেট এসব কাজ করতে গিয়ে আমরা এমন কিছু ভুল করি যা আমদের সামাজিক জীবনে অনেক খারাপ ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। সবাই তো আর ইন্টারনেটকে ভালো কাজের জন্য বেছে নেয় না। প্রযুক্তির যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিকও আছে। তাই সাবধানতা ও সতর্কতার সাথে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

ইন্টারনেটে নিজেকে কিভাবে নিরাপদ

এখন আমরা ইন্টারনেটে নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য কিছু উপায় সম্পর্কে জানব। এই আর্টিকেলটি শুধু পড়ে গেলেই হবে না। এই আর্টিকেলটিতে বলা উপায়গুলো আপনি কাজে লাগানোর চেস্টা করবেন। আর পড়ে দেখুন এই উপায়গুলো আমি ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় মেনে চলেন কি না।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন

ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় আমরা আমাদের প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট তৈরি করে থাকি। যেগুলো আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার, গুগল ইত্যাদি ইত্যাদি। আর আমরা কখনো চাই না যে, আমাদের এসকল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হোক। অনেকের এই সব অ্যাকাউন্টে পার্সোনাল কিছু জিনিস থাকে যা তারা কখনোই সবার সাথে শেয়ার করতে চান না। তাই আপনার এসব অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করুন। আর পাসওয়ার্ড মনে রাখতে না পারলে কোথাও লিখে রাখুন।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা ইন্টারনেটে নিজেকে নিরাপদ রাখার প্রধান উপায়। আমি আশা করছি আপনিও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড আপনার অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করে থেকেন। যদি না ব্যবহার করে থাকুন তাহলে আজ থেকে ব্যবহার করা শুরু করে দিন এবং এর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে আপনি অনেকখানি নিরাপদ থাকতে পারবেন।

নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি আপনাকে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি আপনার ইন্টারনেট অ্যাকাউন্টগুলো অনেকখানি নিরাপদ রাখতে পারবেন। সব অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড আপনাকে নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে তা কিন্তু নয়। যেগুলো অ্যাকাউন্ট আপনার কাছে অনেক দরকারী ও পার্সোনাল অনেক জিনিস আছে সেগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

টু স্টেপ ভেরিফিকেশন

টু স্টেপ ভেরিফিকেশনকে বাংলায় দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলতে পারেন। আপনার ইন্টারনেটে থাকা অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বাড়াতে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। ফেসবুক, গুগল, টুইটার সহ প্রায় সব জায়গায় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তাই আপনারো উচিত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা।

এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আপনি বা আপনার অ্যাকাউন্টে নতুন কেউ লগিন করে তাহলে আপনার মোবাইলে একটা কোড যাবে যেটাকে ভেরিফিকেশন কোড বা ওটিপি (OTP) বলা হয়। OTP এর পূর্ণরুপ One Time Password। এই কোড ছাড়া আপনি নতুন কোন ডিভাইসে লগিন করতে পারবেন না। পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করার পাশাপাশি এই কোডটার প্রয়োজন পড়বে।

তাই কেউ কোনভাবে আপনার কোন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জেনে থাকে তাহলে আপনা্র অ্যাকাউন্টে লগিন করতে পারবেন না। তাই এই সিকিউরিটি সিস্টেম আপনার ব্যবহার করা উচিত। যা প্রকৃতপক্ষে আপনার অ্যাকাউন্টের  নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে সক্ষম।

লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন

অযথা লোভ দেখানো বা অবিশ্বস্ত লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। এতে কোন আপনার কোন না কোন অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিভিন্ন প্রমোশনাল ও লোভ দেখানো লিংকে ক্লিক করে অনেকেই তার প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট হারিয়েছেন।

এসব লিংকে ক্লিক করলে আপনার অজান্তে বা অসাবধানতায় কোন ফাইল ডাউনলোড হয়ে যায় বা ফিশিং সাইটে লগিন করে হ্যাকিং এর শিকার হতে পারেন। এসব ছাড়াও আপনার ডিভাইসে বিভিন্ন পারমিশন নিতে এই লিংকের ওয়েবসাইট গুলো সক্ষম। আর ডাউনলোড করা কোন ফাইল ইনসট্যাল করে ফেললে আপনার ডিভাইস হ্যাক পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। যার ফলে আপনার ডিভাইসে থাকা সকল তথ্য চুরি হতে পারে। যা আপনার নিরাপত্তা হুমকির অন্যতম প্রধান একটি কারণ।

তাই সবসময় চেষ্টা করুন এমন ধরনের লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকার। তাহলে ইন্টারনেটে আপনি অনেকখানি নিরাপদ থাকবেন।

ক্রাক অ্যাপ বা সফটওয়্যার

ক্রাক অ্যাপ বা সফটওয়্যার আপনার ইন্টারনেটে নিরাপত্তাহানির অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। কেননা এইসব সফটওয়্যারে এমন কিছু স্ক্রিপ্ট থাকে যা আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। এইসকল অ্যাপ বা সফটওয়্যার এতটাই ভায়াভয় যে আপনার পুরো সিস্টেমের এক্সেস নিতে সক্ষম এবং আপনার ডিভাইসকে সম্পূর্ণ রুপে হ্যাক করতে পারে। এর ফলে আপনার ডিভাইসে থাক সকল ফাইল এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লগিন করা পাসওয়ার্ড দেখে ফেলতে পারে। যা আপনাকে বিশাল সমস্যার মুখোমুখী ফেলতে পারে। তাই এসব সফটওয়্যার বা অ্যাপ ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন। আর আমার পরামর্শ হবে এসব অ্যাপ ব্যবহার না করা।

নিজের এক্টিভিটি সোসাল মিডিয়া শেয়ার না করা

অনেকেই আছে যার সোসাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত নিজের এক্টিভিটি লোক দেখানোর জন্য হোক কিংবা কিছু লাইক, শেয়ার, ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য শেয়ার করে যাচ্ছে। কিন্তু, এমনটা করা কখনো উচিত নয়। এতে করে আপনার নিরাপত্তা অনেক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তাই যে কেউ আপনাকে এসব এক্টিভিডিটি দেখে আপনাকে অনেক সমস্যার মধ্যে ফেলতে পারে।

কোথাও খেতে যাওয়ার আগে বা শপিং করার আগে চেকইন। কিংবা এসব জায়গায় গিয়ে সেলফি তুলে তাৎক্ষণিক সোসাল মিডিয়া আপলোড করা ইত্যাদি হলো এক্টিভিডিটি শেয়ার। আপনার ব্যাক্তিগত সুরক্ষার জন্য চেষ্টা করুন এসব না করার।

অবিশ্বস্ত সাইটে ভিজিট করবেন না

কোন সাইটে ভিজিট করার পর আপনার এমন যদি মনে হয় এই সাইটি আপনার জন্য নিরাপদ না তাহলে এসব সাইটে ভিজিট করা থেকে বিরত থাকুন। আর দেখুন যে ওয়েবসাইটে ভিজিট করেছেন সেই ওয়েবসাইটে SSL (Secure Socket Layer) আছে কি না। SSL আপনার ডেটাকে এনস্ক্রিপ্ট রাখতে সাহায্য করে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গুগল এবং ইউটিউবে সার্চ করে দেখতে পারেন।

আর, দরকার ছাড়া যে পার্মিশনগুলো কোন ওয়েবসাইটেক দিবেন না।

  1. নোটিফিকেশনঃ কোন দরকারি এবং ট্রাস্টেড ওয়েবসাইটকে এই পার্মিশন দিন। অন্য কোন ওয়েবসাইটেকে নিলে আপনাকে নোটিফকেশন দিতে দিতে বিরক্ত করে ফেলবে। আর এটাকে স্প্যামও বলতে পারে।
  2. ক্যামেরাঃ কোন ওয়েবসাইটকে ক্যামেরার পার্মিশন দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ক্যামেরা পার্মিশন পেলে সেই ওয়েবসাইট আপনার ক্যামেরা অন করে কি কি ঘটছে তা দেখে নিতে পারবে। তবে কোন বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট বিশেষ প্রয়োজনে এই পার্মিশন চাইলে দিতে পারেন।
  3. লোকেশনঃ জানা শোনা ওয়েবসাইট যেমনঃ গুগল, ফেসবুক, ইউটিব ছাড়া অন্য কোন ওয়েবসাইটকে লোকেশন পার্মিশন না দেওয়াই ভালো। লোকেশন পার্মিশন পেলে তারা আপনার তাৎক্ষণিক অবস্থান জানতে পারবে।

আরো কিছু বিষয়

  1. মোবাইল নাম্বার শেয়ার করবেন না অযথা
  2. পার্সোনাল ইমেইল ঠিকানা শেয়ার করবেন না
  3. নিজের বাসার ঠিকানা অন্য কারো কাছে শেয়ার করবেন না
  4. নিজের পরিবারে এমন কোন কথা কাউকে বলবেন না যা আপনাকে বা আপনার পরিবারকে বিপদে ফেলতে পারে।

এই সকল বিষয়গুলো আপনারা মেনে চলুন। তাহলে ইন্টারনেটে অনেকখানি নিরাপদ থাকতে পারবেন।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here