এন্ডয়েড স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখবে

0
235

বাজারে প্রতি মাসে নামি দামী কোম্পানির নতুন নতুন স্মার্টফোন আসতিছে। তাই নতুন এন্ডয়েড স্মার্টফোন কেনার আগে আমাদের সকলেরই কিছু বিষোয়ের দিকে খেয়াল রাখা উচিত।

এন্ডয়েড স্মার্টফোন আমাদের সকলেরই একটি প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেড। অনেক জটিল কাজ এই ছোট ডিভাইসটির সাহায্যে করতে পারি। পুরো দুনিয়াটাকে আমরা যেন নিজের হাতের মুঠোয় করে নিতে পারি। শুধু যে কোন একটি কাজ আমরা স্মার্টফোনের সাহায্যে করতে পারি তা কিন্তু নয়। অনেক অনেক কাজ একটি মাত্র স্মার্টফোন দিয়ে করা সম্ভব। ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ছবি তোলা, গান শোনা, ভিডিও দেখা ইত্যাদি হাজারো রকম কাজ। যার মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনযাপন সহজতর করতে পারি। একটি এন্ডয়েড স্মার্টফোনকে আমরা মিনি কম্পিউটার ধরে নিতে পারি। এটি কখনো একটি কম্পিউটারের চেয়ে কম না।

যেহেতু একটি স্মার্টফোনকে কোন একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য আমরা ব্যবহার করি না তাই নতুন ফোন কেনার আগে এর সব দিক দেখে ভালো মন্দ বুঝে কেনা উচিত। আর মার্কেটে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ব্রান্ডের নতুন নতুন এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন আসতিছে। যা আমাদের কনফিউজ করে দেয়। ফলে সঠিক সিদ্বান্ত না নিতে পারি না। তবে, আপনি যদি কিছু বিষয় খেয়াল রাখেন তাহলে ভালো দেখে একটি স্মার্টফোনের কিনে নিতে পারবেন।

এন্ডয়েড স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

অনেক কিছু জিনিস আসে যেগুলো আমাদের ফোন কেনার আগে বা সময় খেয়াল রাখা উচিত। তবে আমরা মূল কিছু বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলব। তবে একটা কথা ঠিক আমরা অনেকেই কিন্তু কোন না কোন একটার দিকে ফোকাস করে ফোন কিনে থাকি। যেমন কেউ গেম খেলার জন্য ফোন কেনে বা কেউ ছবি তোলা কিংবা ফিচার সমৃধ ফোন কিনে থাকে। অনেকেই আছে যার সব কিছু গড় বিবেচনায় ফোন নিয়ে থাকে। যেটাই হোক না কেন এই আর্টিকেলে যে পয়েন্ট গুলো বলব সেগুলো এন্ড্রয়েড ফোন কেনার আগে আপনার খেয়াল রাখা উচিত। যদি এসব বিষয়গুলো খেয়াল করে ফোন কেনেন তাহলে দেখবে ফোনটি আপনি লং টাইম অনায়েসে ব্যবহার করতে পারছেন। যেটি অনেক ভালো একটি দিক। আর সাথে ভালো পারফমেন্সও পাবেন আশা করছি।

বাজেট

নতুন এন্ড্রয়েড ফোন কেনার আগে আমাদের সকলেরই একটি বাজেট সিলেক্ট করে রাখা উচিত। কোন বাজেট সিলেক্ট ছাড়া ফোন কেনা উচিত হবে না। বিনা বাজেট সিলেকশনে আপনি কোন দিন ভালো কোণ ফোন কিনতে পারবেন না।

আপনি এটা বোঝাতে চাচ্ছি যে, আপনি কিছু টাকা নিয়ে ফোন কেনার উদ্দেশ্যে বাজার গিয়ে যেটা ফোন পছন্দ হলে সেটা নিয়ে নিলে। এমনটা কখনো করবেন না। আপনি ফোন কেনার জন্য নিদির্ষ্ট একটি বাজেট সিলেক্ট করে রাখুন ফোন কেনার জন্য তারপর ওই বাজেটে আপনি কি ধরনের ও কি উদ্দেশ্যে ফোন কিনতে চান সে ফোনগুলো দেখুন। ক্যামেরার জন্য ফোন কিনতে চাইলে ভালো ক্যামেরার ফোনগুলো দেখুন। যদি আপনার ওই বাজেটে ওই ফোনের দাম বেশি হয়ে থাকে তাহলে বাজেট বাড়িয়ে নিন অথবা ওটা চেয়ে কম দামে কিনুন।

সরাসরি বাজারে গিয়ে ওই বাজেটে ফোন খোজাখুজি থেকে বিরত থাকুন। এমনটা করলে আপনি ফোন কিনতে গিয়ে কনফিউজ হবে। ইউটিউবে আপনার বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন ফোনের রিভিউ দেখে নিন। এর স্পেসিইকেশন দেখুন। ভালো লাগলে আর বাজেটের মধ্য থাকলে বাজারে গিয়ে সরাসরি ওই ফোনটি কিনে নিন।

মোবাইল ফোন কেনার বাজেটকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করে থাকি সাধারণত।

  • লোয়ার রেজ্ঞ
  • মিড রেজ্ঞ
  • হাই রেজ্ঞ

আপনি কত টাকার মধ্য ফোন কিনবেন তা এসব রেজ্ঞের মধ্য আসবে। তবে ফোনের বাজারে মিড রেজ্ঞের ফোনগুলো বেশী বিক্রি হয়। তাইতো নামি দামি কোম্পানি গুলো মিডরেজ্ঞের ফোনগুলো বেশী লঞ্চ করে থাকে।

র‍্যাম ও রোম

বাজেত নিবার্চনের পর আপনি অতি সহজে বুঝে যাবে এই বাজেটে আপনি সর্বোচ্চ কত জিবি র‍্যামে ফোন পাবেন। বাজারে ২ জিবি র‍্যামের নিচে কোন ফোন নেই বললে চলে। কিছুদিন পর দেখা যাবে ২ জিবি র‍্যামের ফোন গায়েব হয়ে যাবে।

মিডরেজ্ঞের সব ফোনের মিনিমাম র‍্যাম ৩ জিবি হয়ে থাকে। ৩ জিবি র‍্যামে নিচে কোন মিড রেজ্ঞ বাজেটের ফোন পাবেন না। কিছু কিছু ফোন কম্পানি লোয়ার মিড রেজ্ঞ বাজেটের ফোনে ৩ জিবি র‍্যাম অফার করে থাকে। র‍্যাম ২ জিবি হলে রম সাধারনত ৩২ জিবি ও ৩ জিবি র‍্যামে ৬৪ জিবি পাবেনই।

চেষ্টা করুন ২ জিবি র‍্যামে ফোন কেনা থেকে বিরত থাকার। মিনিমাম ৩ জিবি র‍্যামের ফোন কিনুন। আর, সম্ভব হলে ৪ জিবি র‍্যামে ফোন কিনুন। এটা শুধু আমি না যারা ফোন সম্পর্কে ভালো জানে তারাও আপনাকে মিনিমাম ৪ জিবি র‍্যামে ফোন কিনতে বলবে।

তবে, বাজেট বলে একটা কথা আছে তাই না? তবে একটু বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দেখুন। সম্ভব না হলে অবশ্যই অবশ্যই মিনিমাম ৩ জিবি র‍্যাম  ৬৪ জিবি রোমের ফোন কিনুন।

প্রসেসর

ফোন পরিচালনা করার জন্য প্রসেসর অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভালো মানের প্রসেসর ছাড়া বেশী র‍্যাম থাকলেও ফোনে ভালো পারফর্মেন্স পাবেন না। আমরা অনেকই আছে যারা ফোনের প্রসেসর না দেখে শুধু র‍্যাম ও রোম দেখে ফোন কিনি। কিন্তু, এমনটা আমাদের কখনো করা উচিত না। এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন কেনার আগে র‍্যাম ও রোমের পাশাপাশি প্রসেসর দেখে নেওয়া উচিত। ২ ধরনের প্রসেসরে ফোন বাজারে বেশী পাওয়া যায়।

  1. মিডিয়াটেক
  2. স্নাপড্রাগন

মিডিয়াটেকঃ মিডিয়াটেক্র সিপিউ সাধারণত মিডরেঞ্জের স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মিডিয়াটেকের প্রসেসরে দাম স্নাপড্রাগনের প্রসেসরের চেয়ে তুলনামূলক ভাবে একটু কম তাই মিড রেজ্ঞের ফোনে এই প্রসেসর ব্যবহার করা হয়।

স্নাপড্রাগনঃ স্নাপড্রাগনের প্রসেসর সাধারণত হাই রেজ্ঞের ফোনে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে, হাই মিড রেজ্ঞের ফোনেও এই প্রসেসর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

তো, ফোনের র‍্যাম রোমের পাশাপাশি ফোনের প্রসেসর দেখে কিনুন। প্রসেসর সম্পর্কে ভালো জ্ঞান না থাকলে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।

ক্যামেরা

আপনি যদি শুধু ক্যামেরার জন্য ফোন কিনেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে হাই মিড রেজ্ঞের ফোন অথবা হাই রেজ্ঞের ফোন কিনতে হবে। এসব ফোনের ফটো কোয়ালিটি অনেক ভালো পাবেন। যদিও শুধু ক্যমেরার দিকে ফোকাস রাখা উচিত নয়। কারণ একটি ডিএসএলআর এ তোলা ফটো আর ভালো ক্যামেরা ফটোতে অনেক তফাত খুজে পাবে। তাও যদি ক্যামেরার জন্য ফোন কিনতে চান তবে মেগাপিক্সেলের পাশাপাশি এর ফিচার সমূহ দেখে নিন।

ক্যামেরা ফোন হিসাবে গুগলের পিক্সেল ফোন অনেক জনপ্রিয়। যা অন্যান্য ফোনের চেয়ে ভালো পারফর্মেন্স দিয়ে থাকে।

ব্যটারী

আপনি যদি আপনার এন্ড্রয়েড ফোনটিকে বেশীর সময়েস জন্য ব্যবহার করেন বা ফোনের ভালো ব্যাটারী চান তাহলে ব্যাটারী বেশি থাকে ফোনগুলো বেছে নিতে পারেন। তবে, বর্তমানে প্রায় সব ফোনেই মিনিমাম ৪০০০ এমএইস এর ব্যাটারী থাকে। এর নিচের ব্যাটারীর ফোন হতে গণা কয়েকটাই। যা বেশীর ভাগই লো রেঞ্জের।

গড় হিসাব করলে দেখা যাবে সব রেজ্ঞের ফোনের ব্যাটারী ৪৫০০ এর আশেপাশে আছে। যা থেকে আপনি ভালো পরিমাণ ব্যাকআপ পাবেন।

ব্যাটারীর পাশাপাশি একটা জিনিস খেয়াল রাখুন ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম আছে কি না। ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম না থকলে আপনা ফোন ফুল চার্জ হতে অনেক সময় নিবে যা আমাদের সকলেরই কাছে বিরক্তকর।

ব্রান্ড

ফোন কেনার আগে ভালো একটা ব্রাড দেখে ফোন কিনুন। বিনা ব্রান্ডের ফোন কেনা থেকে বিরত থাকুন। এসব ফোনে কখনো ভালো পারফর্মেন্স পাবেন না। অনেক চাইনিজ ফোন ব্রান্ড, ইন্ডিয়ান ও দেশী ব্রান্ডগুলো অনেকভালো ফোন অফার করতিছে। তাই আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী যেটা ফোন ভালো মনে হয় তা দেখে শুনে কিনুন।

এসব ছাড়া আরো অনেক বিষোয় আছে যেগুলো এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন কেনার আগে খেয়াল রাখা উচিত। কিন্তু, এগুলো সব মূল বিষোয়। তাই এসব দিকের আগে খেয়াল রাখুন। তাহলে বাকী দিকগুলো এমনিতে কাভা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here