কম্পিউটারকে ফাস্ট রাখবেন কিভাবে? কম্পিউটার ফাস্ট রাখার উপায়!!

0
238

কম্পিউটারকে ফাস্ট না রাখলে বিভিন্ন প্রকার কাজ করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখী হতে পারি। এই আর্টিকেলটিতে কম্পিউটারকে ফাস্ট রাখার উপায়গুলো সম্পর্কে জানব।

কম্পিউটার আমাদের সকলের চেনা পরিচিত একটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সকল কাজ আমরা কম্পিউটারের সাহায্যে করতে পারি। আমাদের জিবনটা ইন্টারনেট নির্ভর হওয়ার সাথে সাথে এই ডিভাইসের ব্যবহার ভিষণ মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে। কখনো কি ভেবে দেখেছে এই কম্পিউটার ছাড়া কি হতো? অনেক সুক্ষ সুক্ষ, জটিল, কঠিন কাজ আমরা এই ডিভাইসটির সাহায্যে করতে পারি।

আমাদের যাদের কম্পিউটার ব্যবহার করি তারা জেনেই কম্পিউটারে কোন কাজ করতে গিয়ে যখন স্লো কাজ করে তখন অনেক বিরক্ত লাগে। নতুন কম্পিউটার কিনে ভালো পারফর্মেন্স পেলেও কিছু দিন পর কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়। কিন্তু আমরা যদি কিছু কাজ করি তাহলে আমরা আমাদের কম্পিউটারকে অনেক ফাস্ট রাখতে পারব।

কম্পিউটারকে ফাস্ট রাখতে হলে কম্পিউটারে কনফিগারেশনও ভালো থাকা জরুরী। যদি আপনার কম্পিউটারের কনফিগারেশন ভালো না থাকে আর সেও কম্পিউটারে হাই এন্ড (High end) কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে তাহলে কম্পিউটার এমনিতে স্লো করবে। এসব সব আরো অনেক বিষয় আছে সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করব। তাই চলুন এখন আর্টিকেলটির মূল বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।

কম্পিউটারকে ফাস্ট রাখার উপায়

কম্পিউটারকে ফাস্ট রাখতে কম্পিউটারের কনফিগারেশন যেমন ভালো থাকে জরুরী তেমন আপনার কম্পিউটারে কনফিগারেশন অনুযায়ী অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার ব্যবহার করা উচিত।

অপারেটিং সিস্টেম

আপনার কম্পিউটারে কনফিগারেশন অনুযায়ী অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করুন। আপনি যদি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকেন তাহলে সিস্টেম আপডেটের ক্ষেত্রে বেশী লক্ষ্য রাখুন। আপডেট করার পর আপনার কম্পিউটারের কনফিগারেশন অনুযায়ী পারফর্মেন্স পাবেন কি না।

আপনাকে যে লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে তা কিন্তু নয়। তবে, হ্যা সিকিউরিটির খাতিরে লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু, কম্পিউটারের কনফিগারেশন লেটেস্ট ভার্সন ভালো ভাবে না চললে তা ব্যবহার করা বোকামী ছাড়া অন্য কিছু না।

এতে আপনার কম্পিউটারের স্পিড অনেক কমে যাবে। আর, কম্পিউটার ফাস্ট করা তো দূরের কথা। সিস্টেমে অনেক ল্যাগের সমস্যার মুখোমুখি হবে।

তাই আপনি আপনার কম্পিউটারকে ফাস্ট রাখার জন্য কনফিগারেশন অনুযায়ী ওপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করুন।

সাজেশনঃ আপনার কম্পিউটারে কনফিগারেশন যদি পুরাতন হয় বা কম্পিউটারে অনেক আগের হয় কিংবা আপনার কম্পিউটারে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের ক্ষেত্র স্লো বা ল্যাগ ফিল করেন তাহলে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে দেখতে পারেন। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে উইন্ডোজের চেয়ে ভালো স্পিড পেতে পারেন।

এসএসডি ব্যবহার

এসসডি মূলত এক প্রকার হার্ড ডিস্ক। বাজারে দুই ধরনের হার্ড ডিস্ক সবচেয়ে বেশী পাওয়া যায়।

  • এইচডিডি (HDD)
  • এসএসডি (SSD)

আমরা সবাই বেশিরভাগ কম্পিউটার ব্যবহারকারী HDD ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু, HDD এর পাশাপাশি SSD ব্যবহার করা উচিত। এসএসডি হার্ড ডিস্কের স্পিড এইচডিডি এর থেকে তুলনামূলক ভাবে বেশী। তাই অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটলের ক্ষেতে এসএসডি ব্যবহার করা উচিত।

এসসডি ব্যবহার করলে কম্পিউটার অনেক তাড়াতাড়ি অন হবে এবং অপারেটিং সিস্টেম অনেক দ্রুত গতির থাকবে। এছাড়াও এসএসডি হার্ড ডিস্কে ইন্সটল করা সফটওয়্যার দারুন গতিতে ব্যবহার করতে পারবেন। যা কম্পিউটারকে ফাস্ট রাখতে অনেক সহায়তা করে।

প্রসেসর

কম্পিউটারকে ফাস্ট রাখার জন্য প্রসেসর দায়িত্ব অনেক বেশী। কম্পিউটারের প্রসেসর যত তাড়াতাড়ি প্রসেস করবে তত ফাস্ট পারফর্মেন্স আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে পাবেন।

আপনার কম্পিউটারের প্রসেস যদি ভালো না হয় তবে খুব ভালো একটা স্পিড আপনার কম্পিউটার থেকে আপনি পাবেন না। বিশেষ করে ভারী সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে। সাধারণ সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মোটামুটি ভালো পারফর্মেন্স পাবেন।

যদি আপনি নতুন কম্পিউটার কেনতে যাচ্ছে তাহলে ভালো প্রসেসর সিলেক্ট করে কম্পিউটার বিল্ড করুন। ভালো প্রসেসরে কম্পিউটার অনেক ফাস্ট ব্যবহার করতে পারবে।

র‍্যাম

কম্পিউটার ফাস্ট রাখার জন্য র‍্যামের পরিমাণ মোটামুটি একটু বাড়িয়ে নিন। বিশেষ করে মাল্টি টাস্কিং এর জন্য। যদি আপনি এক সাথে কয়েকটি ট্যাব অন রেখে কাজ করতে চান তাহলে র‍্যামে পরিমাণ বডিয়ে নেওয়ার বাঞ্ছনীয়।

আর, যদি আপনি অ্যাডোবির কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চান যেমনঃ ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, আফটার ইফেক্ট ইত্যাদি তবে অবশ্যই বেশী পরিমাণ র‍্যামের প্রয়োজন পড়বে। এসব সফটওয়্যার গুলো র‍্যাম হাংরি।

সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৪ জিবি র‍্যামই যথেষ্ট। তবে ৮ জিবি লাগিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে মোটামুটি এডভান্স লেভেলের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।

বাজারে বর্তমানে দুই টাইফের র‍্যাম বেশী পাওয়া যায়।

  • ডিডিআর ৩ (DDR3) ও
  • ডিডিআর ৪ (DDR4)

ডিডিআর ৪ বর্তমানের লেটেস্ট টাইপের র‍্যাম। তাই সব সময় চেষ্টা করুন লেটেস্ট টাইপের র‍্যাম ব্যবহার করার জন্য। লেটেস্ট টাইপের র‍্যামে তুলনামূল স্পিড অনেক বেশী পাবেন।

অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম রিমুভ

যেসব প্রোগ্রাম আপনার কোন কাজে লাগে না সেই প্রোগ্রাম আপনার কম্পিউটার থেকে মুছে ফেলা উচিত। এই রকম অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম গুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চললে আপনার কম্পিউটার স্লো হওয়ার জন্য দায়ী থাকবে। তাছাড়া এসব অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম অযথা স্টোরেজ ব্যবহার করে থাকে।

তবে আপনার কম্পিউটারে র‍্যাম ও স্টোরেজ যদি তুলনামূলক ভাবে বেশী থাকে তাহলে রেখে দিতে পারেন তেমন একটা সমস্যায় পড়বেন না।

C ড্রাইভ খালি রাখুন

সি ড্রাইভ (C Drive) অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল এর লোকেশকে বোঝার। অর্থাৎ, যে ড্রাইভে অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল আছে সেই ড্রাইভকে সি ড্রাইভ হিসাবে ধরা হয়।

অপারেটিং সিস্টেম যে ড্রাইভে ইনস্টল করা আছে সেই ড্রাইভকে ফাকার রাখার চেস্টা করুন। ২০০ জিবি সি ড্রাইভের জন্য রেখে দিতে পারেন।

আর এখানে অন্য কোন ফাইল রাখা থেকে বিরত রাখুন কোন প্রোগ্রাম ইনস্টল লোকেশনের জন্য সি ড্রাইভ আমরা প্রায়সই সিলেক্ট করে থাকি। তাই সি ড্রাইভে বাড়তি ফাইল রেখে এর স্টোরেজ বাড়াবেন না।

সি ড্রাইভ ফুল হয়ে গেলে আপনার কম্পিউটার অনেক স্লো হয়ে যাবে। অপারেটিং সিস্টেম বা বিভিন্ন প্রোগ্রাম ব্যবহারের সময় তার তাদের প্রয়োজনে বিভিন্ন টেম্পোরারি ফাইল তৈরী করে থাকে। সি ড্রাইভ ভর্তি হয়ে গেলে এই ফাইল গুলো তৈরি করতে পারবে না। ফলে আপনার কম্পিউটার স্লো হবে। তাই আপনার কম্পিউটারকে ফাস্ট রাখার জন্য খেয়াল রাখুন সি ড্রাইভ যেন ভর্তি না হয়ে যায়।

টেম্পোরারি ফাইল পরিষ্কার

যেমনটা একটু আগেই বললাম সিস্টেম ও প্রোগ্রাম তাদের নিজেদের প্রয়োজনে বিভিন্ন টেম্পোরারি ফাইল তৈরী করে থাকে। এসব টেম্পোরারি ফাইল তাৎক্ষণিক ভাবে কাজ লাগলেও পরবর্তীতে আর কাজে লাগে না। ফলে বেশীরভাগ সময়ই এসব ফাইল হার্ডডিস্কে জমা হয়ে থাকে। যা যেমন অযথা স্টোরেজ ভর্তি করে রাখে তেমনি কম্পিউটারের স্পিড অনেক স্লো করে দেয়।

তাই এসব টেম্পোরারি ফাইল আমাদের কম্পিউটার থেকে কিছু দিন পরপর মুছে ফেলা উচিত। এসব টেম্পোরারি ফাইল মুছে ফেলার জন্য অনেক সফটওয়্যার পাওয়া যায়। যা আপনি গুগলে সার্চ করে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করার আগে খেয়াল রাখবেন ডাউনলোড করার ওয়েবসাইটি যেন ট্রাস্টেড হয়। এমন টা যেন না হয় ভুলে কোন ভাইরাস বা ম্যলওয়ার ডাউনলোড করে ফেলেন। যা আপনা কম্পিউটারকে স্লো করার পাশাপাশি স্পিড অনেক কমিয়ে দিবে।

এইসকল বিষয়ে প্রতি লক্ষ্য রাখলে আপনি আপনার কম্পিউটারকে অনেকখানি ফাস্ট রাখতে পারবেন। এসব ছাড়াও ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার যেন আপনার কম্পিউটারে যেন না ঢুকে সেই বিষয়ের দিকেও খেয়াল রাখুন। ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার কম্পিউটার স্লো করার অন্যতম একটি কারণ। নিয়মিত এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার দিয়ে কম্পিউটারকে স্ক্যান করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here